ব্লগ সাইটে ভিজিটর পাওয়ার উপায়

ব্লগ সাইটে ভিজিটর পাওয়ার উপায় খুজে না পেয়ে হতাশ হয়েছেন অনেকেই এমনকি ব্লগিং ছেড়ে দিতে বাধ্য হয়েছেন। এই আর্টিকেলে ব্লগ সাইটে ভিজিটর পাওয়ার উপায় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করব এবং এমন কিছু টিপস শেয়ার করব যেগুলো ফলো করলে আপনাকে আর কখনোই ভিজিটর আসা নিয়ে ভাবতে হবে না।

গুগলে ব্লগ সাইটে ভিজিটর পাওয়ার উপায় খুঁজতে খুঁজতে আমি এমন কোন আর্টিকেল পড়া বাদ রাখি নাই। ঐ লেখাগুলোতে অনেক উপায় বলা আছে, কিন্তু কিভাবে ভিজিটর আনতে পারব সে উপায় আমি খুঁজে পাইনি। সবাই এত এত উপায় শেয়ার করছে অথচ তারা নিজেরাই এসব উপায়ে ভিজিটর পাচ্ছে না। আর যারা রেগুলার অনেক ভিজিটর পাচ্ছে তারা কখনোই শেয়ার করে না কিভাবে ভিজিটর পাচ্ছে।

নতুন পুরাতন অসংখ্য ব্লগ সাইটের একটা বড় সমস্যা হচ্ছে ভিজিটর না পাওয়া। আমি রিসার্চ করে এমন কিছু উপায় বের করতে পেরেছি যা আপনারা নিয়মিত অনুসরণ করলে ব্লগিং এ নিশ্চিতভাবে সফল হতে পারবেন। অবশ্যই নিয়মিত। আপনি যেহেতু ভিজিটরদের জন্য লিখছেন ভিজিটর আপনার সাইটে আসবেই।

এবার আসুন ধাপে ধাপে ব্যাখ্যা করছি ব্লগ সাইটে ভিজিটর পাওয়ার উপায়

১। আর্টিকেলঃ ভিজিটররা আপনার ব্লগ সাইটে শুধুমাত্র আর্টিকেল পড়ার জন্যই আসবে। তাই আপনাকে ভিজিটরদের চাহিদা মত হাই কোয়ালিটি আর্টিকেল লিখতে হবে। আপনার টার্গেট করা ভিজিটরদের চাহিদা যেন কোনভাবে অসম্পূর্ণ না থাকে সেই ভাবেই আপনার আর্টিকেল লিখতে হবে।

হাই কোয়ালিটি আর্টিকেল কিভাবে লিখতে হয়

উদাহরণ হিসেবে ধরুন, আমি ব্লগ সাইটে ভিজিটর পাওয়ার উপায় খুঁজতে খুঁজতে যতগুলো সাইট ভিজিট করেছি তাদের কারো লেখা পড়ে এবং বাস্তবে প্রয়োগ করে আমি কোন কার্জকরি ফল পাইনি। এর ফলে

  • ঐ সাইটগুলোর উপর আমার আর কোন আস্থা থাকল না।
  • মনে মনে দুই চারটে গালি দিলাম
  • ভবিষ্যতে আর কখনো ঐ সাইটের নাম সামনে দেখলে ভুলেও আর ঢুকব না এই সিদ্ধান্ত নিলাম।

অপরদিকে আপনারা যারা আমার লেখাটি পড়ে যত রকমের কার্জকরি ব্লগ সাইটে ভিজিটর পাওয়ার উপায় আছে সব পেয়ে যাবেন তখন

  • আপনি খুশি হবেন এবং আমার উপর সন্তুষ্ট হবেন
  • এই সাইটের নাম মনে রাখবেন, ব্রাউজারে সেইভ রাখবেন, কাউকে সাজেস্ট করবেন, অর্থাৎ আমরা যখন পুরোপুরি স্যাটিসফাইড হই তখন যা কিছু করি আর কি

আর বলতে হবেনা। আশা করছি বুঝতে পেরেছেন, ভিজিটর পাওয়ার জন্য আর্টিকেল কতটা গুরুত্বপূর্ণ।

নতুন অবস্থায় যারা ব্লগিং শুরু করেন তাদের আরেকটি বড় অসুবিধা হল কন্টেন্ট আইডিয়া খুজে বের করা। এজন্য ব্লগিং শুরু করবেন একটি নির্দিষ্ট বিষয়ের উপর। অবশ্যই এমন কোন বিষয়ে যার প্রতি মানুষের ইন্টারেস্ট আছে। উদাহরণ দিয়ে সহজ করে বলছি। কারণ ব্লগ কন্টেন্ট আইডিয়া কিভাবে খুঁজে বের করবেন তা খুঁজে পাওয়া মুশকিল। আমি এই বিষয়ে ও আর্টিকেল লিখেছি। চাইলে পড়ে নিতে পারেন।

ধরুন আমাদের নোটখাতার কথা। আমাদের ব্লগ সাইটটির মুল উদ্দেশ্য হল মানুষের উপকার করা। এমন সব সমস্যার সহজ সমাধান দেয়া যেগুলোর কোন কার্জকরি সমাধান খুঁজে পাওয়া যায় না। এবার দেখুন আপনার সমস্যাটা হল ভিজিটর পাচ্ছেন না, তাহলে ব্লগ কন্টেন্ট আইডিয়া বের করা নিয়েও যে আপনি সমস্যায় ভুগছেন তা আমাকে বুঝে নিতে হবে। ঠিক এভাবেই প্রত্যেকটা প্রব্লেমের সাথে বিভিন্ন ভাবে আরো অনেক প্রব্লেম জড়িয়ে থাকে। তাই আমাকে আপনার যত ধরনের প্রব্লেম থাকতে পারে সবকিছু নিয়ে ভাবতে হবে এবং সহজ সুন্দর ও কার্জকরি সমাধান দিতে হবে। তাহলেই আমাদের নোটখাতা আপনার ফেভারিট লিস্টে জায়গা পাবে।

তাহলে এই বিষয়টি স্পষ্ট যে ব্লগ সাইটে ভিজিটর পাওয়ার উপায় এবং মূলমন্ত্র হল আর্টিকেল। আর্টিকেলের ব্যাপারে আরো কিছু জানার থাকলে অবশ্যই কমেন্টে প্রশ্ন করুন।

২। ফেসবুক শেয়ারিংঃ আর্টিকেল লিখার আগে আপনি যে ভিজিটর গুলোকে টার্গেট করেছিলেন তারা ফেসবুকের কোন কোন জায়গায় আছে খুঁজে বের করুন। তাদের কাছে আপনার আর্টিকেলটি পৌছে দিন। যেখানে সেখানে লিংক শেয়ার না করে শুধুমাত্র টার্গেটেড ভিজিটরদের জন্য লিংক শেয়ার করুন। আপনার লেখাটি যদি আসলেই কাউকে স্যাটিসফাইড করতে পারে তাহলে সে স্বেচ্ছায় আপনার আর্টিকেল শেয়ার করবে। আপনি যা যা করবেন-

  • টার্গেটেড ভিজিটররা যেসব গ্রুপ, পেইজ এবং ফেইসবুকের যেসব যায়গায় একটিভ থাকে সব যায়গায় যুক্ত হয়ে যান।
  • আর্টিকেলের সাথে রিলেটেড কোন পোষ্ট থাকলে তাতে কমেন্টে লিংক শেয়ার করুন।
  • টাইমলাইনে পোষ্ট করুন
  • গ্রুপ এবং পেইজে পোষ্ট করুন এবং টার্গেটেড ভিজিটরদের ইনভাইট করুন

ফেইসবুক গ্রুপগুলো লিংক শেয়ার করলে এপ্রুভ করে না এটা সম্পূর্ন ভুল। আপনার লেখাটি যদি গ্রুপের সবার জন্য উপকারি হয় তাহলে আপনার পোষ্ট অবশ্যই এপ্রুভ করবে। আমি নিজে বেশ কয়েকটি গ্রুপে পোষ্ট শেয়ার করে অনেক ভাল ভিজিটর পেয়েছি। যেসব কাজ করা যাবে না-

  • যেখানে সেখানে কমেন্ট করে লিংক শেয়ার
  • ইনবক্সে লিংক শেয়ার

এগুলো করে কখনো কাউকে বিরক্ত করবেন না। তাহলে আপনার সাইটের প্রতি মানুষের খারাপ মনোভাব চলে আসবে। সবসময় মাথায় রাখবেন আপনার লেখাটি যেন শুধুমাত্র তাদের কাছেই পৌছায় যাদের আসলে দরকার। আপনার উদ্দেশ্য হল মানুষের উপকার করা, উপকার করতে গিয়ে কারো বিরক্তির চোখে পড়া যাবে না। এজন্য আপনি কয়েকটি ফেসবুক আইডি তৈরি করুন এবং এগুলোতে নিয়মিত লিংক শেয়ার করুন। আর এই আইডিগুলোতে আপনার টার্গেট করা ভিজিটরদের এড করুন।

এভাবে আপনি একদম নতুন অবস্থায় প্রতিদিন ১০০-৫০০ পর্যন্ত ভিজিটর অনায়াসে পেয়ে যাবেন। যখন আপনি ধারাবাহিকভাবে পোষ্ট আপডেট দিতে থাকবেন এবং শেয়ার করতে থাকবেন আপনার ভিজিটর তখন শুধু বাড়তেই থাকবে।

সবচেয়ে বেশি ভিজিটর ফেসবুক থেকেই নিতে হবে। এর অনেক ভাল দিক আছে যেমন, আপনি ফেসবুকে ইনস্ট্যান্ট আর্টিকেল ব্যবহার করে ফেসবুক থেকেও ইনকাম করতে পারবেন। এজন্য আপনাকে প্রতিদিন ফেসবুক থেকে ১৫০০+ ভিজিটর পেতে হবে।

আর নতুন অবস্থায় আপনার ফেসবুক ছাড়া ভিজিটর পাওয়ার অন্য কোন উপায় নেই। সামান্য কিছু টাকা খরচ করে ফেসবুকে আপনার পোষ্ট বুষ্ট করতে পারেন। মাত্র ২০ ডলারের মত খরচ করে ৩০-৩৫ মিলিয়ন ভিজিটরের কাছে পৌছাতে পারেন।

৩। গুগল, বিং, ইয়াহুঃ ভিজিটর পাওয়ার জন্য সবচেয়ে কার্যকরি উপায় হল সার্চ ইঞ্জিন। উপরের দুটি ধাপে যদি আপনি সুন্দরভাবে কাজ করে থাকেন তাহলে আপনার সার্চ ইঞ্জিনে র‍্যাংকে আসা বেশি কঠিন হবে না। সোসাল সাইটে শেয়ার করা পোস্টের প্রতি ভিজিটরদের ইন্টারেস্ট গুগলকে র‍্যাংকিং এর জন্য ভাল সিগনাল দেয়। সার্চ ইঞ্জিনে র‍্যাংকে আসার জন্য আপনাকে কিওয়ার্ড রিসার্চ করা জানতে হবে।

প্রথম অবস্থায় আপনি এত ভাল এসইও পারবেন না জানি। বাংলায় যদি ব্লগিং করেন কিওয়ার্ড রিসার্চ আরো কষ্টসাধ্য। আমি কিছু কার্যকরি টিপস শেয়ার করব এগুলো ফলো করলে ভাল কিওয়ার্ড বাছাই করতে পারবেন। তাছাড়া নোটখাতা ওয়েবসাইটে শেয়ার করা হয়েছে কিভাবে আপনার আর্টিকেলটি গুগলের ১ম পেইজের ১ম পজিশনে আনতে পারবেন। এগুলো পড়লে আপনাকে টেনে নিয়া আসা হবে গুগলের সার্চ পেইজের ১ম পজিশনে।

আচ্ছা এবার আপনি যে বিষয়টি নিয়ে আর্টিকেল লিখবেন তা গুগলে সার্চ দিন। নিচের ছবির মত রিলেটেড কিওয়ার্ড পাবেন। গুগল ক্রোম ব্রাউজারে keyword everywhere extension ব্যবহার করুন। এখানে আরো কিছু কিওয়ার্ড পাবেন। এগুলো থেকে বাছাই করা কিওয়ার্ড দিয়ে আর্টিকেল লিখুন। সার্চ ইঞ্জিন থেকে ভিজিটর পেতে হলে এসইও শিখতে হবে। অন্যান্য কাজ গুলো করতে করতে এসইও প্রয়োজনের তাগিদেই শিখে যাবেন তেমন কোন কঠিন ব্যাপার না।

৪। ব্লগ কমেন্টিং এবং গেস্ট পোস্টিংঃ টেকটিউউন্স, সামহোয়্যারইন এর মত বড় বড় ব্লগ সাইটগুলোতে গেস্ট পোস্টিং করে ভিজিটর আনতে পারবেন। পোস্টের সাথে আপনার সাইটের লিংক ব্যবহার করবেন। এজন্য আপনার পোস্ট এমনভাবেই লিখতে হবে যেন ভিজিটররা আপনার সাইট ভিজিট করতে আগ্রহী হয়।

আপনার সাইটের সাথে রিলেভেন্ট সাইটগুলো খুজে বের করুন। তাদের সাইটে গেস্ট পোস্ট অথবা আপনার সাইটের পোস্টের সাথে রিলেভেন্ট যেসব পোস্ট পাবেন তাতে আপনার পোস্টের লিংক কমেন্ট করুন। কমেন্ট অবশ্যই এমন ভাবে করতে হবে যাতে ভিজিটরের আগ্রহ বেড়ে যায় আপনার সাইট ভিজিট করার জন্য।

৫। ইউটিউবঃ আপনার ব্লগে যে ধরনের কন্টেন্ট পোস্ট করছেন তার উপর ভিডিও তৈরি করে ইউটিউবে আপলোড করুন। সবচেয়ে সহজ উপায়ে স্ক্রিন রেকর্ডার ব্যবহার করে স্লাইড শো দিয়ে ও  ভিডিও বানাতে পারেন। ভিডিও ডেসক্রিপশনে আপনার ব্লগ সাইটের লিংক দিয়ে দিবেন। এভাবে আপনি প্রচুর ভিজিটর পাবেন। তাছাড়া ইউটিউব থেকেও ইনকাম করতে পারবেন।

বেষ্ট ফ্রি কম্পিউটার স্ক্রিন রেকর্ডারটি কিভাবে ডাউনলোড করবেন এবং ব্যবহার করবেন তা জানতে এই পোস্ট টি পড়ুন কম্পিউটার স্ক্রিন রেকর্ডার

৬। ব্র্যান্ডিংঃ আপনার ওয়েবসাইটের পরিচিতি যত বাড়বে ভিজিটর ও তত বাড়তে থাকবে। আপনার ওয়েবসাইট যখন জনপ্রিয় হয়ে উঠবে তখন আর আপনাকে ভিজিটর খুঁজতে হবে না। ভিজিটররা ইচ্ছা করেই আপনার সাইটে আসবে। এজন্য আপনার সাইটের একটি সুন্দর নাম লাগবে। যাতে ভিজিটরদের সহজেই মনে থাকে।

৭। ভিজিটরদের ইন্টারেস্ট রিসার্চঃ এবার আপনি গুগল এনালিটিক্স নিয়মিত পর্যবেক্ষন করুন। আপনার ভিজিটররা কোন ধরনের পোষ্ট বেশি পড়ছে তা রিসার্চ করুন। তারপর ঐ টপিকগুলোর সাথে রিলেভেন্ট আর্টিকেলগুলো পোষ্ট করুন। পোস্টের কমেন্টগুলো নিয়মিত পড়ুন। যদি আপনার ভিজিটর কোন বিষয়ে জানতে চায় ঐ বিষয়ে আর্টিকেল লিখুন। ভিজিটরকে ইমেইল করে পোস্টের লিংক পাঠান।

সবসময় ভিজিটরদের ইন্টারেস্টের প্রতি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিবেন।

৮। মোবাইল এপঃ আপনার ওয়ার্ডপ্রেস ওয়েবসাইটে প্রগ্রেসিভ ওয়েব এপ প্লাগিন ব্যবহার করুন। এর ফলে anroid/ios দুটি প্লাটফর্মের ভিজিটররা ই আপনার ওয়েবসাইটটি এপ হিসেবে ব্যবহার করতে পারবে। যখন খুশি আপনার সাইট ভিজিট করতে পারবে এমনকি ইন্টারনেট ছাড়াও। রেগুলার ভিজিটর পাওয়ার জন্য এটি খুবই কার্যকরি।

কিভাবে প্রগেসিব ওয়েব এপ ব্যবহার করবেন তা জানতে নিচের পোস্টটি পড়ুন।

ওয়েবসাইট টু মোবাইল এপ (android/ios) শিখে ফ্রীলান্সিং করুন

৯। ওয়েব পুশ নটিফিকেশনঃ ভিজিটর ধরে রাখার জন্য পুশ নোটিফিকেশন ব্যবহার করুন। এতে আপনি নতুন কোন পোষ্ট আপডেট করার সাথে সাথে ভিজিটরদের মোবাইলে নটিফিকেশন চলে যাবে। এজন্য আপনার ওয়ার্ডপ্রেস ড্যাসবোর্ডে গিয়ে One signal web push প্লাগিন টি ইনস্টল করুন এবং কনফিগার করুন।

১০। লোডিং স্পীডঃ আপনার ওয়েবসাইটের লোডিং স্পীড ভাল হতে হবে। এজন্য আপনার ওয়ার্ডপ্রেস সাইটে wp rocket প্লাগিনটি ব্যবহার করতে পারেন।

১১।ধৈর্য্যঃ আপনাকে ধৈর্য্যের সাথে কাজ করতে হবে। সহজে আশা ছেড়ে দিলে চলবে না। ধৈর্য্যের সাথে নিয়মিত কাজ চালিয়ে গেলে ধীরে ধীরে ফলাফল ভাল হতে শুরু করবে।

ভিজিটর বাড়ানোর জন্য আপনাকে রেগুলার পোষ্ট দিতে হবে। মনে রাখবেন যত বেশি পোষ্ট তত বেশি ভিজিটর। ধরুন আপনার একটি পোষ্টে ৫০০ জন ভিজিটর পেয়েছেন। তাহলে পোষ্ট যদি ১০টি হয় ভিজিটর ৫০০০ এর কাছাকাছি চলে আসবে। আপনি যদি নিয়মিত ভাল মানের আর্টিকেল লিখেন আপনার ওয়েবসাইটে ভিজিটর আসবেই।

Zahid Hossain Jewel

I am a wordpress developer and SEO expert. I am here to share the knowledge I have gathered.
| Follow me on Facebook

Leave a Reply