বিসিএস বাংলা সাহিত্যে প্রস্তুতি

বিসিএস বাংলা সাহিত্য – যেকোন প্রতিযোগিতা মূলক পরীক্ষার জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটা টপিক। বাংলা সাহিত্য থেকে বিসিএস প্রিলিমিনারিতে প্রশ্ন হয় ২০টি। ব্যাংকের পরীক্ষাতেও গড়ে ৫-৬টির মত প্রশ্ন থাকে। অন্যান্য পরীক্ষা গুলোতেও কম বেশি প্রশ্ন হয়ে থাকে বাংলা সাহিত্য থেকে।

তাহলে বুঝতেই পারছেন বিসিএস বাংলা সাহিত্য অংশটি মোটেও হেলাফেলার বিষয় নয়। বাংলা সাহিত্যে ভালো করতে হলে দরকার সুপরকল্পিত প্রস্তুতি। কিন্তু, অনেকেই বলতে পারেন বিসিএস বাংলা সাহিত্যের সিলেবাস অনেক বড়। ভালো প্রস্তুতি নেওয়া কি সম্ভব?

হ্যাঁ, অবশ্যই সম্ভব। একটু ভালো করে পড়লেই বিসিএস প্রিলিতে ২০ এর মধ্যে অনায়াসে ১২/১৩ পেয়ে যাবেন। আর যদি একটু স্মার্টলি প্রস্তুতি নিতে পারেন তাহলে ১৫ নম্বর পেয়ে যাবেন। কয়েকটি প্রশ্ন সবসময়ই ধারণার বাইরে আসে। তাই এগুলো আগেই বাদ দিতে হবে। আপনার চেষ্টা থাকবে যাতে অন্তত ১২-১৫ তুলে নিতে পারেন।

এই পুরো আর্টিকেলে বিসিএস বাংলা সাহিত্যে কিভাবে শতভাগ প্রস্তুতি নিতে পারেন সেই সম্পর্কে প্রতিটি বিষয় আলাদা আলাদা ভাবে আলোচনা করা হয়েছে। তাহলে চলুন দেখে নেই বিসিএস বাংলা সাহিত্য বিষয়ে কিভাবে প্রস্তুতি নিবেন।

বিসিএস বাংলা সাহিত্য বিষয়ে যেভাবে প্রস্তুতি নিবেন

বিসিএসে বাংলা সাহিত্য বিষয়ে ভালো করতে গেলে আপনাকে ধাপে ধাপে প্রস্তুতি নিতে হবে। এমন না যে আজ আধুনিক যুগ থেকে একটু পড়লাম কাল আবার মধ্যযুগ থেকে একটু পড়বো। এটা হবে চরম ভুল। আপনাকে যেটা করতে হবে সেটা হচ্ছে ধারাবাহিকতা বজায় রেখে ধাপে ধাপে বাংলা সাহিত্য পড়তে হবে। প্রতিদিনই পড়ার রুটিনে অন্তত ৩০ মিনিট সময় বাংলা সাহিত্য প্রস্তুতির জন্য রাখুন।

সময়তো রুটিনে রেখে দিলেন। সময় রাখলেই কি পড়া হবে? পড়তে হলে বই লাগবে না? বই ছাড়া কই থেকে পড়বেন? বই তো অবশ্যই কিনতে হবে। তাহলে এখন প্রশ্ন আসছে বিসিএসে বাংলা সাহিত্যে ভালো করার জন্য আমি কি বই কিনতে পারি?

তাহলে চলুন প্রথমেই দেখে নেই কি কি বই কিনবেন-

  • প্রফেসরস জব সল্যুশন [সাম্প্রতিক এডিশন]।

জব সল্যুশন যে শুধু মাত্র বাংলা সাহিত্যের প্রস্তুতির জন্য কিনবেন তা কিন্তু নয় এই বইটা কেনা একজন পরীক্ষার্থীর অবশ্য কর্তব্য

বইয়ের নাম গুলোতে ক্লিক করে অনলাইন থেকে কিনে নিতে পারবেন।

১২-১৫ নম্বরের জন্য এতগুলো বই? – এই প্রশ্নটা আপনার মনে আসার আগেই কিছু কথা বলি আপনার জন্য। কথাগুলো খুব গুরুত্বের সাথে নিবেন।

দেশের বর্তমান প্রক্ষাপটে চোখ বন্ধ করে বলা যায় বিসিএস একটি গ্ল্যামারাস জব। সিভিল সার্ভিসে ক্যাডার হিসাবে নিয়োগ পেলে আপনি দেশের প্রথম শ্রেণীর নাগরিক হিসাবে স্বীকৃত হবেন। আপনার একটা স্বাক্ষরের জন্য কেউ একজন আপনার দরজায় ঘন্টার ঘন্টা দাঁড়িয়ে থাকতে ইচ্ছুক। সমাজে একটা সম্মানজনক অবস্থান তৈরি হবে আপনার। শুরুতেই বেতন পাবেন প্রায় ৩০,০০০ টাকা। সাথে বাড়িভাড়া ভাতা, চিকিৎসা ভাতা, ভ্রমন ভাতা, যাতায়াত ভাতা, উৎসব ভাতা সহ নানান ভাতা পাবেন। সার্কিট হাউজে রাত্রি যাপনে পাবেন জামাই আদর।

এত এত সুবিধা থাকার পরেও আপনার যদি বই এর তালিকা দেখলে চোখ বেরিয়ে আসতে চায় কিংবা মাথায় হাত পড়ে যায় তাহলে তো সমস্যা। তারপরেও আপনি দুইটা কথা বলবেন-

এত বই পড়ে শেষ করতে পারবো? – কিছু করার নেই। এত এত সুবিধা পাবেন অথচ তার জন্য একটু কষ্ট করতে পারবেন না? আলসেমি করে কখনোই ক্যাডার হওয়া সম্ভব না।

আমার আর্থিক অবস্থা ভালোনা, বই কেনার টাকা কই পাবো? – দরকার হলে ধার করুন। একসাথে না পারলে অল্প অল্প করে কিনুন। কিন্তু অবশ্যই নিজের বই রাখুন।

আরেকটা কথা মাথায় রাখুন। প্রস্তুতি নেবার ক্ষেত্রে কৃপণতা করা চলবেনা। একটা বিষয়ে শুধুমাত্র এক সেট বই দিয়ে আপনার হয়ে যেবে সেটা ভাবার কোন প্রকার আবশ্যকতা নেই। একজন লেখকের বইয়ের সব কিছুই ভালো হবে না।

তাহলে কি করতে হবে আশা করি বুঝে গিয়েছেন সবাই।

বই তো কিনে ফেললাম তাহলে আর দেরি না করে চলুন বাংলা সাহিত্যে প্রস্তুতি পর্ব শুরু করে দেই।

প্রথম ধাপঃ জব সল্যুশন –

ধারাবাহিক ভাবে ধাপে ধাপে প্রস্তুতি পর্বের প্রথমেই যেটা করবেন সেটা হচ্ছে জব সল্যুশন থেকে বিগত বিসিএসের সাহিত্য অংশের সকল প্রশ্ন পড়ে ফেলবেন। শুধু পড়ে ফেলবেন এমন না, শিখে ফেলবেন। এবং খুব ভালো করেই শিখে ফেলবেন।

এই কাজটা শুধু বাংলা সাহিত্য বিষয়ে প্রস্তুতি নেবার ক্ষেত্রে না বরং সকল বিষয়ে প্রস্তুতি নেবার ক্ষেত্রেই করবেন।

এতে করে প্রশ্নের প্যাটার্ন আপনার আয়ত্তে যেমন আসবে তেমনি বিসিএস প্রিলি পরীক্ষায় কিংবা অন্যান্য ২য়, ৩য় বা ৪র্থ শ্রেণীর চাকরির পরীক্ষায় প্রশ্ন হুবহু কমন পেতে পারেন। তাই জব সল্যুশন থেকে বিগত সালে আসা প্রশ্ন গুলো খুব ভালো করে শিখে নিন। এখানে কোন প্রকার ছাড় দেওয়া চলবে না।

দ্বিতীয় ধাপঃ প্রশ্ন বিশ্লেষণ –

এই ধাপে আপনাকে প্রতিটি নম্বরের জন্য সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা তৈরি করতে হবে। মনে রাখবেন, প্রতিটি নম্বরের জন্য। তার জন্য প্রশ্নের ক্যাটাগরি অনুযায়ি  নম্বর বিভাজন করে নেয়া খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই নম্বর বিভাজন থেকেই আপনি বুঝতে পারবেন কোন অংশে কতটুকু জোড় দিয়ে পড়তে হবে। তাই এই ধাপটিতে ভুল করা চলবে না। এখানে ভুল করলে ভুলের মাশুল গুনে শেষ করতে পারবেন না।

জব সল্যুশনের সাহিত্যের প্রশ্ন গুলো খুব ভালো করে পড়লে আপনি সাহিত্যের কোন অংশ থেকে কেমন প্রশ্ন আসে সেটা সম্পর্কে একটা সুস্পষ্ট ধারণা পাবেন। সেখান থেকে নম্বর বিভাজনের কাজটা করে নিতে পারেন। এই কাজটা আমি আপনাদের জন্য একটু সহজ করে দিচ্ছি।

প্রথমেই দেখে নিবো বিসিএসে বাংলা সাহিত্যের সিলেবাস-

প্রিলিমিনারিঃ

প্রাচীন ও মধ্যযুগ – ৫ নম্বর।

আধুনিক যুগ – ১৫ নম্বর।

লিখিতঃ

বাংলা ভাষা ও সাহিত্য-বিষয়ক প্রশ্নের উত্তর – ৩০ নম্বর।

প্রিলিমিনারির সিলেবাসটা একটু খেয়াল করুন- প্রাচীন ও মধ্যযুগ থেকে শুধুমাত্র ৫ নম্বর। কিন্তু আমরা যদি প্রাচীন ও মধ্যযুগের ব্যাপ্তি দেখি তাহলে দেখবো ৯৫০ থেকে ১৮০০ সাল। সময়টা অনেক দীর্ঘ কিন্তু এখানে নির্দিষ্ট কিছু টপিক বলে দেয়া যায় যেমনঃ চর্যাপদ, মঙ্গলকাব্য, শ্রীকৃষ্ণকীর্তন, বৈষ্ণব পদাবলি, আরাকান রাজসভা, ফোর্ট উইলিয়াম কলেজ ইত্যাদি।

আবার যখন আধুনিক যুগে আসি সেখানে সময়ের ব্যাপ্তি ১৮০০ সাল থেকে বর্তমান অর্থাৎ ২০০ বছরের কিছু বেশি। কিন্তু এখানে সাহিত্যিকের সংখ্যা প্রায় ৪০০-৫০০। অর্থাৎ বিশাল একটা সিলেবাস।

আরেকটা জিনিস খেয়াল করবেন পিএসসি ১১ জন গুরুত্বপূর্ণ সাহিত্যিকের নাম উল্ল্যেখ করেছে। তারা হলেনঃ

বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরমাইকেল মধুসূদন দত্তমীর মশাররফ হোসেন
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরদীনবন্ধু মিত্রকাজী নজরুল ইসলামজসীম উদ্দীন
ফররুক আহমদকায়কোবাদবেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন

এবার আসুন প্রিলিমিনারির প্রশ্ন বিশ্লেষণ করে দেখি –

৩৫-৪০ বিসিএস প্রিলিমিনারিতে প্রাচীন ও মধ্যযুগ থেকে এসেছে ২৬টি প্রশ্ন এবং আধুনিক যুগ থেকে এসেছে ৮০টি প্রশ্ন।

প্রাচীন ও মধ্যযুগের ব্যাপ্তি খুব বেশি হলেও এখানে পড়া তুলনামূলক কম এবং একটু বুঝে শুনে পড়লে পেয়ে যেতে পারেন ৫ এর মধ্যে ৫ নম্বর।

৩৫-৪০তম বিসিএসের প্রশ্ন বিশ্লেষণ করলে দেখা যায় ১১ জন সাহিত্যিক থেকে প্রতিবারই প্রশ্ন এসেছে ৭-৯টি।

অর্থাৎ, আপনি যদি প্রাচীন ও মধ্যযুগ এবং ১১ জন গুরুত্বপূর্ণ সাহিত্যিক এর সাহিত্যকর্ম খুব ভালো করে পড়েন তাহলে প্রিলিমিনারিতে ১১/১২ নম্বর পেয়ে যাবেন। লিখিত পরীক্ষার জন্যও প্রায় ২০ নম্বরের সিলেবাস কভার হয়ে যাবে।

এখন বাকি রইলো আধুনিক যুগের চার-পাঁচশো কবি-সাহিত্যিক। এখান থেকে বাছাই করে ৬০/৭০ জনের গুরুত্বপূর্ণ সাহিত্যকর্ম একটু ভালো করে পড়লেই আরো কিছু নম্বর কমন পাবেন। তাছাড়া উক্তি-পঙক্তি, পত্রিকা, ছন্দ-অলংকার এগুলো থেকেও প্রশ্ন আসে।

তৃতীয় ধাপঃ

বাংলা সাহিত্যে পূর্ণ প্রস্তুতি নেওয়ার জন্য কিভাবে পড়বো?

এই ধাপে যাবার আগে আপনাকে দেখতে আপনার হাতে সময় কেমন আছে? অনেক বেশি নাকি অনেক কম?

যদি আপনার হাতে অনেক সময় থাকে তাহলে Francis Bacon এর এই উক্তিটা পড়ে নিন, “Some books are to be taste, others to be swallowed, and some few to be chewed and digested”.

বুঝেননি? না বুঝলে বুঝে নিন- “কিছু বই শুধু মাত্র স্বাদ নেবার জন্য, অন্য গুলো গিলে ফেলতে হবে আর কিছু চিবিয়ে-চুষে হজম করে ফেলতে হবে”।

এখন আশা করি বুঝে ফেলেছেন কি বলতে চেয়েছি। তারপরেও আমি একটু ভেঙে বলছি-

জব সল্যুশন থেকে বিগত সালের প্রশ্ন পড়া আপনার ইতিমধ্যে শেষ। আপনি মুটামুটি একটা ধারণা পেয়ে গেছেন কোন টপিক গুলোতে বেশি গুরুত্ব দিতে হবে এবং কোন টপিক গুলোতে কম গুরুত্ব দিতে হবে। আর কোন টপিক গুলো একদমই বাদ দিতে হবে।

তাহলে এবার আপনার হাতে নেবার সময় হয়েছে মাহবুব আলমের ‘বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস’ এবং হুমায়ূন আজাদের ‘লাল-নীল দীপাবলী’। এই বই দুইটি পড়া শুরু করুন।

জব সল্যুশন থেকে প্রাপ্ত ধারণা কাজে লাগিয়ে যে টপিক গুলো খুবই কম গুরুত্বপূর্ণ বা বলতে গেলে আসেই না পরীক্ষাতে সেগুলোর শুধু স্বাদ নিন। যে টপিক গুলো থেকে প্রায় সময়ই প্রশ্ন আসে সেগুলো চিবিয়ে-চুষে হজম করে ফেলুন। অর্থাৎ, এই টপিক গুলো বুঝে বুঝে এর তাৎপর্য অনুধাবন করে পড়ুন। আর কিছু টপিক পাবেন যেগুলো বুঝতে গেলে মাথার নাট-বল্টু ঢিল হয়ে যায়। এই টপিক গুলো চোখ বন্ধ করে গিলে ফেলুন।

একটা ব্যাপার মাথায় রাখুন, স্মার্ট পরীক্ষার্থীরা হাতে সময় থাকলে শুধু প্রিলিমিনারির জন্য প্রস্তুতি নেয়না। তারা এমনভাবে প্রস্তুতি নেয় যাতে প্রিলিমিনারির সাথে সাথে লিখিতও কাভার করা যায়। তাই পড়ার সময় এমন ভাবে পড়বেন যাতে যাতে একই সাথে লিখিত পরীক্ষার প্রস্তুতি হয়ে যায়।

এই বই দুইটা পড়া হয়ে গেলে হাতে নিন সৌমিত্র শেখড় স্যারের ‘বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা’। এই বইটি আপনার প্রস্তুতিতে এক অনন্য মাত্রা এনে দেবে। এই বইটি আপনাকে লিখিত প্রস্তুতি নিতে দারুন ভাবে সহায়তা করবে এবং প্রিলিমিনারির প্রস্তুতিও খুব দ্রুত নিতে সহায়তা করবে। তাই যাদের হাতে সময় কম অর্থাৎ বিসিএস পরীক্ষা সন্নিকটে তারা আগের দুইটি বই না পড়েও এই বইটা পড়ে নিতে পারেন।

কিন্তু আপনার হাতে সময় থাকলে আগের দুইটি বই অবশ্যই পড়বেন। তার আগে সৌমিত্র শেখড় স্যারের বইটি পড়া একটু বোকামিই হবে।

বিসিএস বাংলা সাহিত্য বিষয়ে প্রস্তুতি নেবার সময় যে যে টপিক গুরুত্বপূর্ণ মনে হয় সেগুলো একটা খাতায় নোট করে ফেলুন। যাতে করে পরীক্ষার আগ মহূর্তে বই হাতড়ে বেড়াতে না হয়। খাতা থেকে চোখ বুলিয়ে নিবেন।

লিখিত পরীক্ষায় ভালো নম্বর তোলা আপনার জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ যদি আপনি ভালো একটা ক্যাডার পেতে চান। যদি, কোন রকম একটা ক্যাডার পেতে চান তাহলে লিখিত পরীক্ষার জন্য বিগত সালের প্রশ্ন ব্যাংক সলভ করার পাশাপাশি বাজার থেকে একটা গাইড বই পড়ে ফেললেই হবে।

কিন্তু যদি লিখিত পরীক্ষায় সাহিত্য বিষয়ে ভালো নম্বর তুলতে চান তাহলে আপনাকে প্রশ্ন ব্যাংক সলভ করার পাশাপাশি ‘সাহিত্য জিজ্ঞাসা’ বইটির উপর ভালো দক্ষতা অর্জন করতে হবে। আর এগুলোর সাথে যদি একটা গাইড বই পড়ে ফেলতে পারেন তাহলে তো খুবই ভালো।

উপসংহারে বলতে চাই বাংলা সাহিত্যের সিলেবাসা দেখতে অনেক বড় কিন্তু একটু বুঝে শুনে পড়লেই খুব ভালো একটা নম্বর পেয়ে যাবেন। কিন্তু আপনি যদি এলোপাথাড়ি পড়তে থাকেন তাহলে বাংলা সাহিত্যে ভালো নম্বর তোলাটা অসম্ভব হয়ে দাঁড়াবে। একটা কথা মনে রাখবেন, সাহিত্য একটা ধারাবাহিক বিবর্তণ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নিজেকে সমৃদ্ধ করেছে। তাই সেই সাহিত্যও আপনাকে ধারাবাহিক ভাবেই পড়তে হবে। আজ আধুনিক যুগ থেকে রবীন্দ্রনাথ পড়লাম, কাল প্রাচীন যুগ থেকে চর্যাপদ পড়বো এর পড় দিন মঙ্গলকাব্য পড়বো- এভাবে পড়তে গেলেই আপনি সব গুলিয়ে ফেলবেন এবং ফলশ্রুতিতে দিনশেষে হতাশা ছাড়া আর কিছুই আপনার হবেনা।

তাই বিসিএস বাংলা সাহিত্যে ভালো করতে হলে অবশ্যই, অবশ্যই এবং অবশ্যই ধারাবাহিকতা বজায় রেখে স্মার্টলি পড়ুন। বিসিএস বাংলা সাহিত্য পরীক্ষায় আটকাবেন না।

আপনাদের সহায়তার জন্য আধুনিক যুগের কিছু সাহিত্যিকের নাম এখানে দিয়ে দিচ্ছি। যাদের উপর একটু বেশি গুরুত্ব দিয়ে আপনাদের পড়া দরকার। এদের সম্পর্কে আগে জানুন। আধুনিক যুগে আসার পর ধারাবিকতার চাইতে গুরুত্ব অনুযায়ী পড়াটা গুরুত্বপূর্ণ।

ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর, রাজা রামমোহন রায়, বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়, মাইকেল মধুসূদন দত্ত, মীর মশাররফ হোসেন, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, কাজী নজরুল ইসলাম, জসীমউদ্‌দীন, বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন, ফর্‌রুখ আহমদ, কায়কোবাদ, শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়, আখতারুজ্জামান ইলিয়াস, আহসান হাবীব, জীবনানন্দ দাশ, জহির রায়হান, তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়, বিহারীলাল চক্রবর্তী, মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়, মুনীর চৌধুরী, শওকত ওসমান, শামসুর রাহমান, সুফিয়া কামাল, সমর সেন, সৈয়দ শামসুল হক এই ২৫ জনের সাহিত্যকর্ম খুব ভালো করে পড়ে শেষ করুন। এদের সম্পর্কে ভালো করে পড়া শেষ হলে আধুনিক যুগের প্রগতিশীল লেখকদের সম্পর্কে পড়ুন। প্রগতিশীল লেখকদের মধ্যে রয়েছেনঃ

আহমদ ছফা, হুমায়ুন আজাদ, আহমদ শরীফ, বদরুদ্দিন ওমর, আবদুল্লাহ আল মামুন, জাহানারা ইমাম, শাহরিয়ার কবির, আরজ আলী মাতুব্বর, নির্মলেন্দু গুণ, মহাদেব সাহা।

বিসিএস বাংলা সাহিত্যে প্রস্তুতি আরো মজবুত করার জন্য যা যা করতে পারেনঃ

  • বাংলা সাহিত্যে যা যা প্রথম তা পড়বেন।
  • বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পত্রিকা যেমনঃ বেঙ্গল গেজেট, দিকদর্শন, সমাচার দর্পণ, সবুজপত্র, মোসলেম ভারত, কল্লোল, সমকাল, বেগম, নবযুগ, হিতকরী, সওগাত ইত্যাদির প্রকাশকাল, প্রকাশক, সম্পাদক সম্পর্কে ভালো ধারণা রাখুন।
  • ভাষা আন্দোলন ও মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক সাহিত্যকর্ম সর্বোচ্চ গুরুত্বের সহিত পড়ুন।
  • বিভিন্ন সংগঠন যেগুলো সাহিত্যের সাথে সম্পর্কিত যেমনঃ বাংলা একাডেমি, বাংলাদেশ এশিয়াটিক সোসাইটি, মুসলিম সাহিত্য সমাজ, হিন্দু কলেজ ও ইয়ংবেঙ্গল, বঙ্গীয় মুসলমান সাহিত্য সমিতি ইত্যাদি সম্পর্কে ভালো করে পড়ুন।
  • সাহিত্যিকদের ছদ্মনাম, উপাধি গুলো মুখস্ত রাখবেন।
  • সাহিত্যিকদের বিভিন্ন সাহিত্যে ব্যবহৃত বিখ্যাত উক্তিগুলো পড়বেন।
  • সাম্প্রতিক সাহিত্যিকদের সাহিত্যকর্ম সম্পর্কে ধারণা রাখুন।

নোটখাতা

নোটখাতা বাংলা ভাষায় বিশ্লেষণ ধর্মী লেখা প্রকাশের জগতে এক অনন্য উদাহরণ প্রতিষ্ঠা করতে চায়
| Follow me on Facebook

This Post Has One Comment

  1. Mamun

    Great and carry on

Leave a Reply